ব্রিটিশ অর্থনীতি জুলাইয়ে কোনো প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতির পেছনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে উৎপাদন খাত। এক বছরের মধ্যে খাতটিতে সবচেয়ে বড় সংকোচন দেখা গেছে জুলাইয়ে। খবর বিবিসি।
যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান দপ্তর ওএনএস জানিয়েছে, জুনে অর্থনীতি দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ে তা শূন্য শতাংশে নেমে আসে। তবে এ তথ্য বাজার প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মাসভিত্তিক অর্থনৈতিক তথ্য দ্রুত পরিবর্তনশীল হতে পারে। তাই ওএনএস এখন তিন মাসের গড় হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সে হিসেবে মে-জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ২ শতাংশ।
ওএনএস বলছে, এ তিন মাসে পরিষেবা খাত দশমিক ৪ বেড়েছে, তবে উৎপাদন খাতে পতন হয়েছে। শুধু জুলাইয়েই ম্যানুফ্যাকচারিং আউটপুট কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক সংকোচন। বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক ৭ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দশমিক ৩ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি থাকলেও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক গতি মন্থর হচ্ছে। এ অবস্থায় ২৬ নভেম্বরের বাজেট ঘিরে করবৃদ্ধির জল্পনা বাড়ছে। চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভসের নতুন আর্থিক নীতি অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে ঋণের বদলে কর আহরণের মাধ্যমেই দৈনন্দিন সরকারি ব্যয় চালাতে হবে। একই সময়ে জাতীয় আয়ের তুলনায় ঋণের অনুপাত কমাতে হবে।
রিভসের লক্ষ্য অর্জনে কত বড় ঘাটতি পূরণ করতে হবে তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস রয়েছে। কোনো কোনো হিসাব বলছে, সরকারের সামনে ১৮ বিলিয়ন পাউন্ডের ঘাটতি রয়েছে, আবার কেউ বলছে ৫০ বিলিয়ন পর্যন্ত।
দেশটির সরকার বলছে, বছরের পর বছর বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে অর্থনীতি স্থবিরতায় আটকে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা কাজ করছে। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকারের নীতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তৈরি করেছে, যা করবৃদ্ধিকে অনিবার্য করে তুলছে।